Templates by BIGtheme NET
১১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৬ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
Home » ধর্ম ও জীবন » জ্যোতির্বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান

জ্যোতির্বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান

প্রকাশের সময়: আগস্ট ৯, ২০১৯, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

যুগে যুগে বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমান পণ্ডিতগণ অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। অনেক কিছুর আবিষ্কারও করেছেন তারা। এসব কাজে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তৎকালীন মুসলিম শাসকগণ। তাদের গবেষণাকর্ম পরবর্তী যুগে বিজ্ঞানের উন্নতিতে ব্যাপকভাবে সহায়ক হয়েছে। প্রথম সৌর বছরের মান হিসাব করা, পেন্ডুলাম ও দোলক ব্যবহার, ক্যামেরা ও চশমা আবিষ্কারসহ অনেক কিছুই সম্ভব হয়েছে মুসলিম পণ্ডিতদের হাত ধরে।

জাবির ইবনে সিনান আল-বাত্তানি (৮৫৮-৯২৯ সাল)
নিজের যুগে তো বটেই, পৃথিবীর ইতিহাসে জ্যোতির্বিজ্ঞানের উন্নয়নে অন্যতম একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বলে গণ্য হন জাবির ইবনে সিনান আল-বাত্তানি। পাশাপাশি গণিতেও আছে তার বিশেষ অবদান। তিনি বছরের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করেছিলেন বেশ সূক্ষ্মভাবে। কোনো প্রকার টেলিস্কোপের সাহায্য ছাড়াই কেবল খালি চোখের পর্যবেক্ষণ এবং গণিতের প্রয়োগে তিনি সে সময়েই এক সৌর বছরের মান হিসাব করেন। যার সঙ্গে আজকের আধুনিক হিসাবের মাত্র তিন মিনিটের গরমিল পাওয়া গেছে। পৃথিবীর বিষুবরেখার মধ্য দিয়ে যাওয়া কাল্পনিক সমতলের সঙ্গে সূর্য ও পৃথিবীর কক্ষপথের সমতল অসদৃশ বলে প্রথম ব্যাখ্যা করেন আল- বাত্তানি।

ইবনে ইউনুস (৯৫০ বা ৫২-১০০৯ সাল)
অগ্রজ মুসলিম বিজ্ঞানীদের মতো ইবনে ইউনুসও সূর্যের পরিক্রমণ পথের ক্রান্তি-কোণের কৌণিক মান নির্ধারণ করেন। আর যা পুরোপুরিই সঠিক। তারকারাজির গতিবিধির যে মাপ ও পরিমাণ ইবনে ইউনুস আবিষ্কার করেন তা অন্যান্য মুসলিম বিজ্ঞানীদের চেয়ে সঠিক। এটাকে ইবনে ইউনুসের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বলে মনে করা হয়। এছাড়া পঞ্জিকা আবিস্কার, মহাবিষুব, সংক্রান্তি, গ্রহসংযোগ, নক্ষত্রের সাময়িক অদৃশ্যকরণসহ অনেকগুলো আবিস্কার রয়েছে এই মুসলিম বিজ্ঞানির।

ইবনুল হাইসাম (৯৬৫-১০৪০ সাল)
আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক হিসেবে হাসান ইবনুল হাইসাম অধিক পরিচিত। তার অনবদ্য রচনা হলো- ‘কিতাবুল মানাজের’ যাতে রয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্য আলো-অন্ধকার ও দৃষ্টিবিদ্যার অসংখ্য অজানা তথ্য। এসব তথ্য দৃষ্টিবিদ্যার জগতে দিয়েছিল জ্ঞানের বিপ্লব। তিনিই সর্বপ্রথম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আলোর সংজ্ঞা দিয়েছেন।

আল বিরুনি (৯৭৩-১০৪৮ সাল)
বুরহানুল হক আবু রায়হান মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল বিরুনি। সংক্ষেপে‘ আল বিরুনি’ নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন মধ্যযুগীয় শ্রেষ্ঠ মুসলিম পণ্ডিত, মহাজ্ঞানী ও নিষ্ঠাবান গবেষক। তিনি অত্যন্ত মৌলিক ও গভীর চিন্তাধারার অধিকারী দার্শনিক ছিলেন। গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও জ্যোতিষশাস্ত্রে তিনি পারদর্শী ছিলেন। কোপার্নিকাসের ৪২৫ বছর আগেই তিনি বলেছিলেন, পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলো সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। তিনি টলেমি ও ইয়াকুবের দশমিক অঙ্কের গণনায় ভুল ধরিয়ে দিয়ে তার সঠিক সমাধান দেন। তিনিই সর্বপ্রথম অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেন। আর প্রথম প্রাকৃতিক ঝরনা ও আর্টেজিয় কূপের রহস্য উদঘাটন করেন তিনি।

ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭ সাল)
ইসলামের শ্রেষ্ঠ চার বিজ্ঞানীর মধ্যে ইবনে সিনা একজন। ল্যাটিন ইউরোপে তিনি ‘অ্যাভিসেনা’ নামে পরিচিত। চিকিৎসাশাস্ত্রে তার অবদান এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, ১৮ শতকের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বছর ধরে তার লিখিত বইগুলো অক্সফোর্ড, কেমব্রিজসহ ইউরোপের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বসহকারে পড়ানো হতো। চতুর্মুখী জ্ঞানের অধিকারী ইবনে সিনা জ্যোতির্বিজ্ঞানেও রেখেছেন অসামান্য অবদান। বিশুদ্ধতর গণনা করার উপযোগী যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের চিন্তাই প্রথম ইবনে সিনাই করেছিলেন। এছাড়া তিনি গতিশীল পরিমাপ যন্ত্রের মতো সূক্ষ্ম গণনা করার উপযোগী একটি যন্ত্রও আবিষ্কার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ten + six =