Templates by BIGtheme NET
১১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৬ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
Home » বিবিধ » যেভাবে মানবজাতি মাংস খাওয়া শিখলো

যেভাবে মানবজাতি মাংস খাওয়া শিখলো

প্রকাশের সময়: আগস্ট ৯, ২০১৯, ২:৫১ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: খাদ্য হিসেবে মাংসের দোষগুণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কিন্তু কিভাবে মানুষের খাদ্য তালিকায় মাংস স্থান করে নিয়েছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক মানবজাতির মাংস খাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে।

আমাদের আদি পূর্বপুরুষরা বহুকাল নিয়মিত মাংস খেতেন না৷ বড়জোর কুড়িয়ে পাওয়া মাংস খাওয়ার প্রবণতা ছিল৷ প্রায় ২০ লক্ষ বছর আগে শিকার ও মাংস কাটার সরঞ্জাম মানুষের হাতে আসায় পরিস্থিতি বদলে যায়৷ তারপরও বহুকাল ধরে মানুষ অপেক্ষাকৃত কম পরিমাণ মাংস খেত৷ তৃতীয় খ্রিষ্টাব্দের সময়ে মানুষ সারা বছরে মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ কিলোগ্রাম মাংস খেত বলে জানা যায়৷

জানা যায়, প্রথম খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে পৃথিবীর জনসংখ্যাও দ্রুত বাড়তে শুরু করে৷ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কৃষিকাজের প্রসার ঘটে৷ মধ্যযুগের তুঙ্গে অর্থাৎ একাদশ শতাব্দীতে মানুষ বছরে মাথাপিছু ৪০ কিলোগ্রাম মাংস খেত৷ তারপর প্লেগ এসে গোটা মহাদেশের জনসংখ্যা এক ধাক্কায় কমিয়ে দেয়৷ সেসময় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু ঘটে৷ তার জের ধরে গবাদি পশু প্রজননের প্রবণতা এবং খাদ্য হিসেবে মাংসের প্রচলন বাড়তে থাকে৷

পঞ্চদশ শতাব্দীতে আধুনিক যুগের সূচনায় জার্মানির মানুষ বছরে মাথাপিছু ১১০ কিলোগ্রাম মাংস খেতে শুরু করে৷ খাদ্য নিরাপত্তার ফলে জনসংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে৷ মাত্র তিনশো বছরের মধ্যে জনসংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়৷ তারপর মাংস খাবার প্রবণতা আবার কমে যায়৷ স্বল্প পর্যায়ের তুষার যুগে এমনকি গ্রীষ্মকালে শস্য জমাট রাখা সম্ভব হওয়ার ফলে এমনটা ঘটে৷

ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনায় বছরে মাথাপিছু ১৪ কিলোগ্রামের বেশি মাংস খাওয়া সম্ভব ছিল না৷ তখন পশুর গোটা দেহ কাজে লাগানো হত৷ জবাইয়ের পর যা খাওয়া সম্ভব হত না, তা শুকিয়ে অথবা স্মোক করে রাখা হত৷ পরে শিল্পায়ন ও কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগ শুরু হলে রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থার কল্যাণে বিদেশ থেকে মাংস আমদানি করে মজুত রাখাও সম্ভব হয়৷ দুই বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল বাদ দিলে সার্বিকভাবে মাংস খাওয়ার প্রবণতা আবার বাড়তে শুরু করে৷ পশুখামারেও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হলো সেই সঙ্গে তার জের ধরে ফ্যাক্টরি ফার্মিং৷ আজকের মাংসের জনপ্রিয়তার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রিয় পাঠকদের যথেষ্ট ধারনা রয়েছে বলে নতুন করে আর একবিংশ শতাব্দিতে বলতে হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 3 =