Templates by BIGtheme NET
৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » মতামত » শীঘ্রই ইউটিউবের ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সরকারের সহায়তায় বন্ধ হয়ে যাবে: আরিফ

শীঘ্রই ইউটিউবের ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সরকারের সহায়তায় বন্ধ হয়ে যাবে: আরিফ

প্রকাশের সময়: আগস্ট ৩, ২০১৯, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: দক্ষিন এশীয় অঞ্চলের শিশু গণমাধ্যম প্রধান আরিফ রহমান শিবলী। শিশু গণমাধ্যমের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট গড়ে তোলার উদ্যোগ তাকে তুমুল আলোচিত, জনপ্রিয় করে তুলে। মিডিয়া ভিত্তিক কাজ করতে গিয়ে রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনে তার সেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণ, অসহায় পোশাক শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তাকে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসনীয় করে তুলে।

পর্ণ সাইট বন্ধের পিছনের নায়ক সেই আরিফ এবার ইউটিউবে থাকা কয়েক লক্ষ ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সড়িয়ে নেওয়ার আহবান জানান সরকারকে। যেটা তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। টক অব দ্যা টাউন হওয়া সেই ইউটিউব ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের কথা র  মুখোমুখি হচ্ছে আরিফ রহমান শিবলী ‘র ।

বাংলাদেশের কথা: কেমন আছেন?

আরিফ: আলহামদুলিল্লাহ।

বাংলাদেশের কথা: ২২ হাজার পর্ণ সাইট বন্ধের পিছনের নায়ক বলা হয় আপনাকে, অনুভূতি কেমন?

আরিফ: আমি যেহেতু শিশুদের নিয়ে ই কাজ করি। তাদের জন্য ক্ষতিকর সাইটগুলো বন্ধ করার জন্য ২০১৫ সাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে থাকি। যেটা প্রথমে সাড়া কম পেলেও সাধারণ মানুষের কাছে পর্ণ সাইটের ক্ষতি তুলে ধরার পর সব শ্রেনীর সহায়তা পাই। বিশেষ ধন্যবাদ সাংবাদিক ভাইবোন দের যারা আমার প্রতি আস্থা রেখে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সরকারের টনক নড়াতে সহায়তা করে গেছেন। ২০১৫ সালে একা যুদ্ধ শুরু করলেও এখন আমি আর একা নই। সবাই আমার মতো ই চান নিজ নিজ সন্তান,ভাইবোনের হাতে নিরাপদ ইন্টারনেট তুলে দিতে। আলহামদুলিল্লাহ! ২২ হাজার পর্ণ সাইট বন্ধ করার পর অবশ্য ই ভালো লেগেছে।

বাংলাদেশের কথা: এখন শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট নিয়ে করা আপনার আন্দোলনের চলমান কর্মসূচি কি?

আরিফ: পর্ণ সাইট বন্ধ করার পর দেখলাম ইউটিউবে ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সংখ্যা অনেক বেশী। তারচেয়েও ভয়ানক এই ভিডিওগুলো নিজ থেকে ই না চাইলেও সামনে চলে আসে। তাই! জরুরী ভিত্তিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করি ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সড়িয়ে নিতে।

বাংলাদেশের কথা: সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

আরিফ: আলহামদুলিল্লাহ! দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে আমার নতুন এই ইউটিউবের ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সড়িয়ে নেওয়ার খবর প্রকাশের পর সামাজিক সকল মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ইউটিউবের ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সড়িয়ে নিতে আমার পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহবান নিয়ে করা জাতীয় দৈনিকের সংবাদ ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতের নজরে আনা হয়েছে। উচ্চ আদালত শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট কেন নয়?এই নিয়ে রুল জারি করেছে সরকারের প্রতি।

বাংলাদেশের কথা: আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী ইউটিউবের ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারে?

আরিফ: আলহামদুলিল্লাহ! ১০০ ভাগ৷ বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নে পরামর্শ বলতে পারেন আমার করা কাজগুলো কে৷ ইনশা আল্লাহ! আমার করা শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ও উচ্চ আদালতের রুল জারির প্রতি সরকার সম্মান দেখিয়ে বিশ্বাস করি ইউটিউবের ক্ষতিকর ভিডিওগুলো সড়িয়ে নিতে দ্রুত কাজ শুরু করবে৷

বাংলাদেশের কথা: শিশুদের জন্য কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন?

আরিফ: ক্ষুদা,দারিদ্র্য মুক্ত, ভয়ভীতি মুক্ত,প্রতিটি শিশুর থাকবে খেলার মাঠ,চিকিৎসা সমান সুবিধা ধনী গরীবের,নিরাপত্তা ও নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যাবহার করবে সকল শিশু এমন স্বপ্ন ই দেখি।

বাংলাদেশের কথা: ভক্তদের সাথে মজার ঘটনা নিয়ে কিছু বলুন?

আরিফ: একবার ট্রেনে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলাম। ট্রেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ছিলো। কথা বলতে বলতে ই যখন তারা জানলো আমি শিশু গণমাধ্যম নিয়ে কাজ করি, কিডস মিডিয়ার প্রধান হিসেবে।তাদের মধ্যে রনি নামের এক শিক্ষার্থী এসে জড়িয়ে ধরে। অবাক করে দিয়ে বলে তাইলে আপনি ই তো বাংলাদেশের পর্ণ সাইটগুলো বন্ধ করানোর সেই নায়ক।গনমাধ্যমের রিপোর্ট টি প্রায় রেকর্ড সংখ্যক কয়েক লক্ষ শেয়ার হওয়ায় ফেসবুক সহ সকল সামাজিক মাধ্যমে।এখন চেহারা অনেকে ভুলে গেলেও আরিফ নামটা তারা অন্তরে গেথে রেখেছে৷

বাংলাদেশের কথা: অল্প বয়সে এতো খ্যাতি কিভাবে সম্ভব হয়েছে?

আরিফ: আসলে! আমি কাজ শিখি স্কুল জীবন থেকে ই। তো নিজের চেস্টা,স্বপ্নকে বড় রেখে বাস্তবায়নের পথে কাজ করে যাওয়া, মানুষের ভালো কথা কে মূল্যায়ন করা,প্রতিটা কাজ করার আগে তা নিয়ে ভাবনা/গবেষণা করা সহায়তা করে।তারচেয়েও বড় কথা আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ ই আমাকে সম্মানিত করেন৷ তার ইবাদত ই আমাকে শক্তি জোগায় মানসিকভাবে, হতাশ হলে দুই রাকাত নফল নামাজ ই আমার পুনরায় আগের চেয়ে বেশী দমে কাজ করতে অনুপ্রেরণা দেয়। আর আমি সবকিছু তে ই আলহামদুলিল্লাহ বলি।

বাংলাদেশের কথা: জাতিসংঘের মঞ্চে যেতে পারলে আপনার প্রথম এজেন্ডা কি হতে পারে?

আরিফ: বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা নিয়ে কিভাবে আমরা একসাথে শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট গড়ে তুলছি সারা বিশ্বের নেতাদের তাই জানাবো। পাশাপাশি সারা বিশ্বে শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট গড়ে তোলা কতটা জরুরী তা তুলে ধরবো বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের শিশুদের মুখপাত্র হয়ে।

বাংলাদেশের কথা: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে৷

আরিফ: আপনাকে বাংলাদেশের কথা পরিবারের সবাইকে সহ সকল পাঠককে ধন্যবাদ ও ভালোবাসা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

13 − 10 =