Templates by BIGtheme NET
১১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৬ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
Home » জাতীয় » সব অপরাধীই কি এখন গলাকাটায় ব্যস্ত?

সব অপরাধীই কি এখন গলাকাটায় ব্যস্ত?

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৫, ২০১৯, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারী কুমিল্লার কান্দারগাঁও থেকে মনিকা নামের ১৫ বছরের এক কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকাবাসীর উদৃতি দিয়ে পত্রিকায় লেখা হয় – ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। তখন যে কোন ঘটনার সঙ্গেই ধর্ষন বা ইভটিজিং জড়িত আছে বলে ধরে নিত সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে হঠাত করেই দেশে ইভটিজিং এর প্রবণতা বেড়ে যায়। পত্র-পত্রিকা খুললেই দেখা যেত, ইভটিজিং এর কারণে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা অথবা ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে নারীর ভাই বা বাবা নির্যাতনের শিকার।

কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে সেই সময়ে অন্যান্য অপরাধও বন্ধ ছিলো না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর গণমাধ্যম জুড়ে ছিলো ইভটিজিং এর খবর। আইন ও শালিস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী সে বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে ২৩৫ জন শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত দেশে ২৯২জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে আর ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সারা দেশে এক হাজার ৮৫টি শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ২০৯টি শিশু, ২০১৩ সালে ২১৮টি শিশু ও ২০১৪ সালে ৩৬৬টি শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

ঠিক একইভাবে, বর্তমানেও দেশে এখন অপরাধই ঘটছে কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে এখন গলাকাটা ও ছেলেধরার বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কোন একটি মহল এই ইস্যুটি জিইয়ে রাখতে ক্রমাগত অপরাধও সংঘটিত করে যাচ্ছে। যাতে গুজবটি বিশ্বাসযোগ্য হয়।

উপরোক্ত পরিসংখ্যানটি উল্লেখ করে মানবাধিকার কর্মী ও সমাজ বিজ্ঞানী নুসরাত জাহান বলেন, বর্তমানে পত্রিকা খুললেই মনে হয় গলাকাটা ছাড়া দেশে আর কোন ইস্যু নাই। পত্রিকাগুলো দেখলে মনে হয় ধর্ষন, চুরি, ছিনতাই সব বন্ধ হয়ে গেছে। মনে হয়, দেশের সকল অপরাধীই এখন গলা কাটায় ব্যস্ত।

সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ারুল করিম বলেন, আমাদের মধ্যে একটা চিরায়ত হুজুগ প্রবণতা আছে। গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমও তার বাইরে নয়। গণমাধ্যম তাদের ব্যাবসায়িক স্বার্থে প্রচলিত ট্রেন্ড এর দিকে ঝুঁকে। পত্রিকা গুলোও তাদের কাটতি বাড়ানোর জন্য প্রচলিত সংবাদকেই বেশি গুরুত্ব দেয় ফলে অন্যান্য সংবাদগুলো কম গুরুত্ব পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

2 × five =