Templates by BIGtheme NET
৬ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২১ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » নেটদুনিয়ার অবৈধ স্বর্গ রাজ্য ডার্কনেট! (পর্ব-৪ ভিডিওসহ)

নেটদুনিয়ার অবৈধ স্বর্গ রাজ্য ডার্কনেট! (পর্ব-৪ ভিডিওসহ)

প্রকাশের সময়: জুলাই ১৭, ২০১৯, ৪:০৩ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা:  জীবন্ত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণা!!

ডার্ক ওয়েবের প্রথম, ২য় ও তৃতীয় পর্বে আপনারা ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে মৌলিক কিছু ধারনা পেয়েছেন। সেই সাথে জানতে পেরেছেন ডার্ক ওয়েবের এক দুর্ধর্ষ সাইট সিল্ক রোড সম্পর্কে।

আজকে অর্থাৎ ৪র্থ পর্বে আমরা ডার্ক নেটের এমনি একটি কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করব যা জানতে পারলে আপনি চমকে যাবেন। সেটা হচ্ছে জীবিত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণা । হ্যাঁ ঠিক শুনছেন, ডার্ক ওয়েবে এমন একটি ওয়েব সাইট রয়েছে যেখানে মানুষের উপর বিভিন্ন অনৈতিক এবং অমানবিক গবেষণা গুলো করা হয় । আর এই গবেষণা করে নাম গোপন রাখা ডাক্তার এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একটা দল। এদের গোপনীয় গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। এখানে বিভিন্ন মানুষকে ধরে এনে তাদের উপর মেডিকেল গবেষণা গুলো করা হয় এবং এই সকল গবেষণার রিপোর্ট, বর্ণনা, তথ্য- তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করা হয় এই সাইটটিতে ।

এই সাইটের ট্যাগ লাইনে লেখা আছে, Not all humens are equal, some of them were born superior to others। অর্থাৎ, পৃথিবীর সব মানুষ সমান নয়, কেও কেও জন্মই নেয় আরেক জনের চাইতে বেশি মূল্যবান হিসেবে ‘। এই সাইটটি যারা পরিচালনা করে তারা এই কাজটাকে মোটেও অমানবিক মনে করে না। তার মনে করে গবেষণার জন্য যদি কিছু মানুষের জীবন যায় তাতে দোষের কিছু নেই। যাদের উপর এই অমানবিক গবেষণা গুলো করা হয় তারা বেশিরভাগই হচ্ছে ছিন্নমূল মানুষ।

এই অমানবিক মানব গবেষণায় ্জড়িত আছে কিছু ডাক্তার। ছবি-কাল্পনিক।

আপনি যদি তাদের ‘about us’ পেজটিতে যান তবে দেখতে পাবেন সেখানে সরাসরি লেখা আছে, এই ওয়েব পেজে আমরা যে গবেষণাগুলো দেখিয়েছি তা করা হয়েছে কিছু মানুষ সাবজেক্ট এর উপর। এরা যাদের কে গবেষণার জন্য নিয়ে আসে তাদের কে উল্লেখ করা হয় ‘সাবজেক্ট’ হিসেবে। সাবজেক্ট হিসেবে যে মানুষগুলো কে এখানে বেছে নেওয়া হয়েছে এরা সবাই গৃহ হীন মানুষ এবং যাদের সরকারি খাতায় এদের কোন নিবন্ধন নেই । অনেকেই বলে মানব পাচার এবং কিডন্যাপ করেও এরকম সাবজেক্ট সংগ্রহ করা হয়। সাইটটির কোন জায়গায় সাবজেক্ট দের আসল নাম ব্যাবহার করা হয় না । নামের জায়গায় দেওয়া হয় একটি করে সিরিয়াল নম্বর।

এখানে বিভিন্ন প্রাণঘাতী মেডিকেল গবেষণা করা হয়। এরকম কিছু ভয়ংকর গবেষণার গুলোর বর্ণনা নিচে দেওয়া হল –

জানা যায়, গবেষকদের এইদলটিতে রয়েছে ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল স্টুডেন্ট। তথ্য অনুসারে গবেষণার জন্য এদের কমপক্ষে চারটা গবেষণাগার বা warehouse রয়েছে। যেখানে মানুষদেরকে রাখা হয় এবং গবেষণা করা হয়।

এখানে বিভিন্ন প্রাণঘাতী মেডিকেল গবেষণা করা হয়। এরকম কিছু ভয়ংকর গবেষণা গুলোর বর্ণনা নিচে দেওয়া হল –

১। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয় –
এই গবেষণায় সাবজেক্টদের খাবার বা পানি ছাড়া রাখা হয়। এই অমানবিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় মানুষ খাবার বা পানি ছাড়া কতদিন বাঁচতে পারে। খাদ্যের অভাবে একে একে সাবজেক্টগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কোন সাবজেক্ট কতটা সময় ধরে টিকে ছিল, এই তথ্য গুলো ওয়েবসাইট টিতে পাবলিশ করা হয়। খাবার ছাড়াও না ঘুমিয়ে মানুষ কতদিন বাচতে পারে এমন ধরনের পরীক্ষাও করা হয় এখানে।

২। ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়
বিভিন্ন বয়সের, লিঙ্গের মানুষের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কি পরিমাণ তা পরীক্ষা করা হয় এখানে। গরম পানি- ঠাণ্ডা পানি , বৈদ্যুতিক শক, বিভিন্ন আঘাতে মানুষ কি পরিমাণ ব্যথা সহ্য করতে পারে এধরনের পরীক্ষাও করা হয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন বিভিন্ন বয়সের সাবজেক্টদের ধরে এনে তাদের গরম পানি ঢেলে, বা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে এই পরীক্ষাগুলো করা হয়। যা খুবই অমানবিক।

৩। ইনফেকশন সমূহ পরীক্ষা এবং কোন অঙ্গ কিরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়
আমরা জানি আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সমূহ বিভিন্ন ভাবে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। ডাক্তারদের এই দলটি সাবজেক্ট দের শরীরে ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয় । এরপর বিভিন্ন অঙ্গের ইনফেকশন পর্যবেক্ষণ করে । কোন অঙ্গটি কত দ্রুত তম উপায়ে আক্রান্ত হয় তা পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে কিছু কিছু সাবজেক্ট সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায় । অনেক সময় ইনফেকশন এই পরিমাণ ছড়িয়ে যায় যে সাবজেক্ট এর মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

৪। ওষুধ ট্রায়াল
বিভিন্ন রোগের বিভিন্ন ওষুধ আবিষ্কার করা হয়। তবে সেই ওষুধ আসলেই মানুষের দেহে কতটা কার্যকর তা সাবজেক্ট দের উপর পরীক্ষা করা হয়। অনেক সময় গরীব মানুষেরা ইচ্ছাকৃত ভাবে টাকার বিনিময়ে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

৫। বড় বড় সার্জারি
সাবজেক্ট দের উপর বড় বড় সার্জারি প্রাকটিস করা হয়। যেমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন। এমনকি বিভিন্ন পশুর অঙ্গ মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন করা যায় নাকি এমন ভয়ঙ্কর পরীক্ষা গুলোও করা হয় বলে জানা যায় ।

৬। নবজাতকরা কতটা এক্স রে রশ্মি, গরম সহ্য করতে পারে তার পরীক্ষা
এর চাইতে লোমহর্ষক আর কি হতে পারে যে, এখানে শিশু এবং নবজাতকদের উপরও পরীক্ষা করা হয়। দেখা হয় যে শিশুরা কি পরিমাণ গরম বা এক্সরে রশ্মি সহ্য করতে পারে ।

৭। Bleaching ইনজেকশন ইফেক্ট পরীক্ষা
এই ওয়েবসাইট টি খুব গোপনে পরিচালনা করা হয়। কিন্তু প্রকাশ পাওয়া ওয়েব সাইটটির একটি পেজে দেখা যায় বিভিন্ন প্রেগন্যান্ট মহিলাদেরকে বিভিন্ন পরিমাণ Bleaching ইনজেকশন পুষ করা হয়। এবং দেখা হয় গর্ভের ভ্রূণ কি পরিমাণ Bleaching সহ্য করতে পারে । এরপর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কতদিনে গর্ভপাত হয়েছে তার ফলাফল।

ইহুদী শিশুদের উপর চালান নাৎসিদের মেডিকেল গবেষণা। ছবি- গুগল।

উল্লেখ্য, এসকল অমানবিক গবেষণার পর অনেকে হয়ত বেঁচে ফিরে। কিন্তু বেশির ভাগ হতভাগ্য মানুষই সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়, বা মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। এই ওয়েবসাইটটিতে দাবি করেছে যে তারা তাদের সাবজেক্টদেরকে নিয়মিত খাবার দেয় এবং মানুষগুলো নিজের ইচ্ছায় নিজেদেরকে এই গবেষণায় সপে দেয়। তারা বলে ওয়ার হাউস গুলোতে সাবজেক্টদের আটকে রাখে না। তবে এটা সহজেই বোঝা যায় এটা একটি খোঁড়া দাবি। কারণ কোন মানুষই নিজের ইচ্ছায় এমন অমানবিক গবেষণায় রাজি হবে না তা বোঝাই যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty − ten =