Templates by BIGtheme NET
২ পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » আমাদের জীবনযাত্রায় যেসব ভূমিকা রেখেছে চন্দ্রাভিযান

আমাদের জীবনযাত্রায় যেসব ভূমিকা রেখেছে চন্দ্রাভিযান

প্রকাশের সময়: জুলাই ১৬, ২০১৯, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

বলা হয়ে থাকে একজন মানুষের একটা ছোট পদক্ষেপ পুরো মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা। ১৯৬৯ সালের ২০শে জুলাই চাঁদের বুকে প্রথম অবতরণের পর এই বিখ্যাত উক্তি করেছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। যার মাধ্যমে ৫০ বছর আগের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত বিশাল অর্জনটি তুলে ধরেন। তবে ইতিহাসের পাতায় এটা এমন একটা অভিযান, যা নানাভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকেও প্রভাবিত করছে।

বর্তমানের হিসাবে বিচার করলে অ্যাপোলোর ওই কর্মসূচীর খরচ দাঁড়াবে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু ওই কর্মসূচী এমন অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে, যা জেনে অনেকেই অবাক হবেন।

এমনই একটি উদাহরণ হলো নির্ভুল সময় রক্ষা। জানা যায়, চাঁদের বুকে দ্বিতীয় মানব হিসাবে নামা বায অলড্রিনের হাতের ঘড়ি। চাঁদে সফলভাবে অবতরণের জন্য নির্ভুলতা বা যথাযথতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেকেন্ডের সামান্য একটি অংশের পার্থক্য হলে সেটি নভোচারীদের জন্য জীবন-মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারতো। সুতরাং মিশন পরিচালনা করার জন্য নাসার দরকার ছিল বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভুল ঘড়ির। ফলে এর সমাধান বের করতে গিয়ে আজকের কোয়ার্টজ ঘড়ির উন্নত সংস্করণ বের হয়ে আসে।

আগুন প্রতিরোধী কাপড় আবিষ্কারের পেছনেও নাসার অবদান রয়েছে। জানা যায়, ১৯৬৭ সালে একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলার সময় অ্যাপোলো-১ আগুন লেগে তিনজন নভোচারী মারা যান, যা আমেরিকান মহাকাশ কর্মসূচীতে বিপর্যয় ডেকে আনে। তবে এর ফলে নাসা এমন একটি আগুন প্রতিরোধী কাপড় তৈরিতে উদ্যোগী হয়ে ওঠে, যা এখন বিশ্বে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত উৎক্ষেপণের সময় পোশাকের যে ঠাণ্ডা করার প্রযুক্তি নভোচারীদের সুস্থ রাখে, সেটি এখন অনেক রোগীসহ মানুষের উপহারে ব্যবহার হয়।

এছাড়া, জীবন বাঁচানো হৃদরোগ প্রযুক্তিতেও নাসার অনেক অবদান রয়েছে। নাসার একটি ক্ষুদ্র আকারের সার্কিটের প্রযুক্তি অনুসরণ করে হৃদযন্ত্রের চিকিৎিসায় ইমপ্লান্টেবল ডিফ্রিবিলিটার আবিষ্কৃত হয়। সেটি প্রথমে আবিষ্কার করা হয়েছিল নাসার একটি ক্ষুদ্র আকারের সার্কিটের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে গিয়ে। বিশেক বৈদ্যুতিক পালস পাঠিয়ে হৃদপিণ্ডের অস্বাভাবিকতা রোধ করে এই যন্ত্রটি। এই যন্ত্রের প্রথম সংস্করণটি ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৮০ সালে। বর্তমানে অনেক জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির যন্ত্রটি অনেক রোগীর চামড়ার নীচে স্থাপন করা হয়, যা হৃদযন্ত্রের কম্পন নজরদারি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve − 10 =