Templates by BIGtheme NET
৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০ জুলাই, ২০১৯ ইং , ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
Home » জাতীয় » জনবহুল তালিকা থেকে বের হয়ে আসছে বাংলাদেশ

জনবহুল তালিকা থেকে বের হয়ে আসছে বাংলাদেশ

প্রকাশের সময়: জুলাই ১১, ২০১৯, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: ২১০০ সালের দিকে বিশ্বের জনবহুল শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় থাকবে না বাংলাদেশ। জাতিসংঘের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এমনটাই মনে করছে ওয়াশিংটনের পিউ রিসার্চ সেন্টার।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, রাশিয়া ও মেক্সিকো বিশ্বের শীর্ষ দশটি জনাকীর্ণ দেশের তালিকায় থাকবে না। এই চারটি দেশকে স্থলাভিষিক্ত করবে আফ্রিকার কঙ্গো, ইথিওপিয়া, তাঞ্জানিয়া ও মিসর। প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী আট দশকে মেক্সিকোতে ১০ শতাংশ জনসংখ্যা বাড়তে পারে। একই সময়ে জনসংখ্যা কমবে ব্রাজিলে ১৫ শতাংশ, বাংলাদেশে ৮ শতাংশ এবং রাশিয়ায় ১৪ শতাংশ।

২১০০ সালের মধ্যে যে দশটি দেশের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমবে সেগুলোর একটিও আফ্রিকার না। এই দেশগুলো এশিয়া ও ইউরোপের। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা কমতে পারে চীনে। ২১০০ সালের মধ্যে বর্তমানের তুলনায় চীনের জনসংখ্যা ৩৭৪ মিলিয়ন কমতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সম্ভাব্য জনসংখ্যা কমে আসার পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান জনসংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালের দিকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে চীনকে সরিয়ে দিতে পারে ভারত। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এই শতাব্দির শেষ দিকে কার্যত বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমে আসতে পারে বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে সন্তান জন্মদানের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে।

২১০০ সালের দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা ১০.৯ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ০.১ শতাংশ, যা বর্তমানের চেয়ে কম। ১৯৫০ থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবছর বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়েছে ১ থেকে ২ শতাংশ হারে। জনসংখ্যা ২.৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ৭.৭ বিলিয়ন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্ত ও অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের মতো বিষয়গুলো যেহেতু বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ, তাই প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব বাড়াতে সরকার নান উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা বলছেন, বিপুল এই জনগোষ্ঠী ২১০০ সাল নাগাদ থাকবে না এটা সহজে অনুমেয়। কেননা, দেশের শিক্ষা ও মানুষের কম সন্তান জন্মদানের উপকারীতা মানুষ বুঝতে পারছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জনসংখ্যাবিদ ড. এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, ওয়াশিংটনের পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপের সাথে একমত পোষন করছি। দিনদিন আমাদের দেশের মানুষ শিক্ষার প্রতি মনযোগী হচ্ছে এটা যে কোনো দেশের জন্য ভালো দিক। আর কোনো দেশ যখন শিক্ষায় এগিয়ে যাবে তখন জনসংখ্যা কমবে এটাই স্বাভাবিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 × one =