Templates by BIGtheme NET
৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০ জুলাই, ২০১৯ ইং , ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
Home » জাতীয় » পোড়া রোগীর চিকিৎসায় ”চামড়ার ব্যাংক” হবে বাংলাদেশে

পোড়া রোগীর চিকিৎসায় ”চামড়ার ব্যাংক” হবে বাংলাদেশে

প্রকাশের সময়: জুলাই ১১, ২০১৯, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

রক্তের ব্যাংক, চক্ষু ব্যাংকের আদলে বাংলাদেশে চামড়ার ব্যাংক তৈরি করা হবে। পোড়া রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে যুগান্তকারী এ কাজ বাস্তবায়ন করার মহাস্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা।

ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা অধ্যাপক সামন্তলাল সেন বুধবার দুপুরে বলেন, এটা করার প্রবল ইচ্ছা শক্তি নিয়ে কাজ করছি। এতো বড় ইনস্টিটিউট যেহেতু করা গেছে, চামড়ার ব্যাংকও করা যাবে। এটা হবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য যুগান্তকারী কাজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ পোড়া রোগীর ক্ষতস্থানের চামড়া ঝলসে একদম নষ্ট হয়ে যায়। সেখানে চামড়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট রোগীর দেহের অন্যস্থান থেকে চামড়া কেটে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে দেয়া হয়। কিন্তু যাদের পুড়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই সুযোগও থাকে না। সেক্ষেত্রে চিন্তা করতে হয়, কৃত্রিম চামড়া কিনে প্রতিস্থাপনের। কিন্তু এটা ব্যয়বহুল। দরিদ্র-মধ্যবিত্ত শ্রেণীভুক্ত রোগীর পক্ষে এই সেবা গ্রহণ সম্ভব নয়। আর পুড়ে যাওয়া রোগীদের ৯৯ শতাংশই দরিদ্র-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর।

অধ্যাপক সামন্তলাল সেন বলেন, মরণোত্তর চক্ষু দান, স্বেচ্ছায় রক্তদান, মরণোত্তর দেহদানের জন্য মানুষকে যেভাবে সচেতন, উদ্বুদ্ধ করা হয়, সেভাবে আমরাও চামড়া দানের জন্য উদ্বুদ্ধ করার কাজ করব। চামড়া সংগ্রহের অন্যতম একটি পন্থা হতে পারে- পরিচয়বিহীন মৃতদেহ। এছাড়া মরণোত্তর দেহ থেকেও চামড়া সংগ্রহ করা যাবে। চামড়া সংগ্রহ করতে হবে- সদ্য মৃতদেহ থেকে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পুড়ে যাওয়া স্থানে চামড়া প্রতিস্থাপন না করা গেলে রোগী সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে যান। এটা মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাছাড়া ক্ষতস্থান বিকৃত হয়ে পড়ে। চামড়ার ব্যাংক হলে সময় মতন চামড়া পেতে বেগ পেতে হবে না। রোগীর চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজিয়ে রাখা যাবে।

অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন বলেন, এই চামড়া ব্যাংকের বড় চাকা সাধারণ মানুষ। তাদেরকে চামড়া দানের গুরুত্ব-প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হবে। আমরা খুব দ্রুতই জনগণকে সচেতন করতে কাজ শুরু করব। এজন্য গণমাধ্যমকেও এগিয়ে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

18 − 12 =