Templates by BIGtheme NET
৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০ জুলাই, ২০১৯ ইং , ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
Home » বিনোদন » সানজারির গোপনাঙ্গে এসিড রহস্য ফাঁস! ফেসে গেলেন মিলা

সানজারির গোপনাঙ্গে এসিড রহস্য ফাঁস! ফেসে গেলেন মিলা

প্রকাশের সময়: জুলাই ১০, ২০১৯, ১:২২ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: নানান জল্পনা কল্পনার পরে অবশেষে বেরিয়ে এলো বৈমানিক সানজারি ও সঙ্গীত শিল্পী মিলা ইস্যুর সর্বশেষ রহস্য। স্বস্তি ফিরেছে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও মিলা-সানজারি ইস্যুর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আপডেট রাখা পাঠকদের মাঝে। জানা গেছে বৈমানিক সানজারির গোপনাঙ্গে এসিড মারিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গিত শিল্পী ও সানজারির সাবেক স্ত্রী মিলা। চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে এই সত্য উদঘাটিত হলো-

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মিলার নির্দেশেই তার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারীর শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন মিলার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী কিম জন পিটার হালদার। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)র কাছে মিলার জড়িত থাকার সমস্ত ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি।

ডিবিকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে কিম বলেছে ‘মিলা আপুর মিউজিক রোবোট ব্যান্ডের দলে দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ মালামাল বহন করতাম। এর পর ৩ বছর ধরে মিলা আপুর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে সঙ্গে আছি। গত ২৫ মে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মিলা আপু কান্না করে বলে, সানজারী আমার জীবনটা নষ্ট করেছে। সানজারীকে তুইতো কিছু করতে পারবি না। যা করার আমি নিজেই করব। তখন আমি মিলা আপুকে বলি আপনাকে কিছু করতে হবে না, যা করার আমিই করব। এ সময় মিলা আপুর সাথে পরামর্শ করি সানজারীর গোপনাঙ্গে অ্যাসিড দেব। আপু বলে পারলে কিছু করে দেখা তারপর আসিস। তখন আমি চিন্তা করি মিলা আপুর জীবন নষ্ট করেছে সানজারীর জীবনও নষ্ট করব।’

‘ওই দিনই (২৫ মে) সন্ধ্যাবেলায় মিরপুর ডিওএইচএস সরকার মার্কেটে হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে অ্যাসিড কিনে এনে একটি কাচের কৌটাতে ঢেলে ব্যাগের মধ্যে রাখি। ২৬ ও ২৭ মে দুই দিন উত্তরায় সানজারীর বাড়ির সামনে ইফতারের পর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত অবস্থান করি। কিন্তু সানজারীকে দেখি নাই। পরে ২ জুন বিকেলে সানজারীর বাসার সামনে যাই। আড়াল থেকে দেখতে থাকি ইফতারের পর আনুমানিক সাড়ে ৭টা থেকে ৭টা ৪৫মিনিটের দিকে সানজারী মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে ৫০ গজ সামনের দিকে যাওয়ার পর আমি ডাক দেই ভাইয়া দাঁড়ান। এরপর মোটরসাইকেলের সামনে দুই হাত লম্বা করে দাঁড়িয়ে গতি রোধ করি। আমি পুনরায় মোটরসাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে দ্রুত অ্যাসিডের কৌটা বের করে তার গায়ে ঢেলে দিয়ে কৌটা ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাই।

এ ঘটনার পর এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে যাওয়ার পর মিলা আপুকে ফোন করে বলি আপু সানজারীর গায়ে অ্যাসিড দিয়েছি। আপু বলে ‘ঠিক আছে, ভালো কাজ করেছিস, এখন পালাইয়া যা। পরে আমি রাত সাড়ে ৯টার ট্রেনে চট্টগ্রাম চলে যাই। সেখানে আমার বন্ধুর বাসায় ১৫ দিন থাকার পর ঢাকায় চলে আসি। ঢাকায় এসে মিলা আপুর সাথে যোগাযোগ করলে আপু আমার পূর্ব পরিচিত ব্যান্ডের রহিমের সাথে যোগাযোগ করে। রহিম আমাকে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর আপুর বন্ধু টুকুন খানের বাসায় রেখে দেয়। পরে মিলা আপু দুই দিন আমার কাছে এসে দেখা করে সান্ত্বনা দেয় এবং বলে তোর জামিনের ব্যবস্থা করতেছি। মিলা আপু আমাকে শিখিয়ে দিয়ে বলে, ‘তোর সঙ্গে আমি মোবাইল এ কথা বলি, এই অ্যাসিড মারার কথায় আমার নাম বলবি না। তুই বলবি আমি নিজের ইচ্ছাতেই এই কাজ করেছি।’

উল্লেখ্য, গত ২ জুন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বাসার সামনের সড়কে অ্যাসিড হামলার শিকার হন মিলার সাবেক স্বামী সানজারী। এরপরের দিন অর্থাৎ ৩ জুলাই ক্যান্টনমেন্টের ভেতর মিলার বন্ধু টুকুন খানের বাসা থেকে কিমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ৪ জুন অ্যাসিড দমন আইনে গায়িকা মিলার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন পারভেজ সানজারীর বাবা এস এম নাসির উদ্দিন। সেই মামলার এজাহারে মিলা এবং তার সহকারী পিটার কিমকে অভিযুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

seven − 1 =