Templates by BIGtheme NET
৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০ জুলাই, ২০১৯ ইং , ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
Home » জাতীয় » বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন শতশত মানুষ

বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন শতশত মানুষ

প্রকাশের সময়: জুলাই ৮, ২০১৯, ১০:২৮ অপরাহ্ণ

এ জেড ভূঁইয়া আনাস

রাজধানীসহ সারাদেশে এডিস মশা বহণকারী রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে খোদ রাজধানীতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৭৪৬ জন রোগী। ডেঙ্গুর এমন প্রভাবে আতঙ্কে রয়েছে রাজধানীবাসী। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হলেই কমানো যাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত সাতদিনে সারাদেশে মোট ৯৭৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৫৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। যার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩৯ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ২৪ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৩৮ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫৪ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২৭ জন, বারডেম হাসপাতালে চারজন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঁচজন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন, বিজিবি হাসপাতালে ১৭ জন এবং অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মোট ২১৬ জন ভর্তি রয়েছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ছোট শিশু থেকে শুরু করে গৃহবধূ, চিকিৎসক, সংবাদকর্মী, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এসম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন দায়িত্বরত নার্স বাংলাদেশের কথাকে বলেন, ৭ জুলাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯৬ জন। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের ডাক্তারদের।

আর ইজমু আহমেদ নামে একজন রোগী বলেন, আমি গত তিনদিন থেকে জ্বরে আক্রান্ত। প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে ফার্মেসি থেকে ঔষধ খাই। কিন্তু জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় বড় ভাইয়ের সাথে ঢাকা মেডিকেলে আসি। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। প্লাটিলেট ৮০০০ হাজারে নেমে যাওয়া ডাক্তারের পরামর্শে ভর্তি হয়েছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যানে অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিয়েছেন সর্বমোট ২ হাজার ৬৬৪ জন। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৩৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুন ১ হাজার ৭২১ এবং সর্বশেষ ৬ জুলাই পর্যন্ত ৭৪৬ জন আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন ও জুলাই মাসে একজনসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়।

এসম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল হক বলেন, গেল বছর থেকে আশঙ্কাজনক হারে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকটা স্বাভাবিক ভাইরাল জ্বরের মতো হওয়াতেই এই বিপত্তি। সচেতনভাবে নর্দমা পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করলে, আটকে থাকা পানির স্থানে বেশি করে পানিপ্রবাহ দেয়ার চেষ্টা করলে এডিস মশার জীবনচক্র ব্যাহত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eighteen − 9 =