Templates by BIGtheme NET
৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০ জুলাই, ২০১৯ ইং , ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
Home » মতামত » মিথ্যা যৌতুক মামলায় পুরুষ নির্যাতন কেন?

মিথ্যা যৌতুক মামলায় পুরুষ নির্যাতন কেন?

প্রকাশের সময়: জুলাই ৭, ২০১৯, ৩:২৯ অপরাহ্ণ

ক)

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে ফিরোজ (ছদ্মনাম) ঢাকায় একটি নামকরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি পেয়ে যায়। চাকরির প্রয়োজনে জেলা শহর থেকে তাকে ঢাকায় আসতে হয়। অপরিচিত শহরে এসে মোবাইলের কল্যাণে পরিচয় হয় আরিফার (ছদ্মনাম) সঙ্গে।

ঢাকায় এসে আরিফার সঙ্গে পরিচয় হবার অল্প কিছুদিনের মধ্যে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুই পরিবারের কারও কোন অমত ছিল না। আরিফা ঢাকার একটি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য আরিফা এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকায় আসে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, আরিফার বাবা একজন বর্গাচাষী কৃষক এবং পারিবারিক অবস্থা সচ্ছল ছিল না। আরিফা ঢাকা আসার পর টিউশনি করেই তার যাবতীয় খরচ বহন করত। ফিরোজ বিয়ের আগে থেকেই আরিফার পারিবারিক অবস্থা জানত। কিন্তু ফিরোজ কিংবা তার বাবা-মায়ের আরিফাদের পারিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে সমস্যা ছিল না।

কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন পর ফিরোজ তার এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে জানতে পারে, আরিফা প্রতিদিন দশটার দিকে বের হয়ে যায় এবং আসে প্রায় চারটার দিকে। বিষয়টা প্রথম দিকে আমলে না নিলেও ফিরোজ একদিন আরিফাকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বাইরে যাবার কারণ জানতে চায়।

আরিফার একা বাসায় থাকতে ভালো লাগে না, ভয় করে ইত্যাদি কারণে বান্ধবীর বাসায় যায় বলে ফিরোজকে জানায়। বিয়ের আগে থেকেই ফিরোজের চিন্তা ছিল, তার বাবা-মাকে ঢাকায় নিয়ে আসবে। আরিফার সমস্যার কথা চিন্তা করে আর দেরি করল না। কিন্তু বিধি ভাম।

আরিফার বাইরে যাওয়া বন্ধ হয় না। এই নিয়ে আরিফাকে অনেক কথা বলার পরেও কোন কাজ হয়নি। পরে জানতে পারে অন্য এক ছেলের সঙ্গে আরিফার পরকীয়ার কথা। ফিরোজ তালাকের সিদ্ধান্ত নেয়। আরিফার আত্মীয় স্বজন আসে সালিশ করতে।

একই সঙ্গে যৌতুক, নারী নির্যাতন মামলার ভয়ও দিয়ে যায়। আরিফা আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সবকিছুর চাপ নিতে না পেরে ফিরোজ চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের জেলায় চলে আসে এবং তালাকপত্র পাঠিয়ে দেয়। আরিফার পরিবার দেরি না করে প্রায় পাঁচশত কিলোমিটার দূরে নিজ জেলার আদালতে ফিরোজের নামে যৌতুকের নামে মামলা দায়ের করে।

খ)

মাহবুব (ছদ্মনাম) পেশায় পুলিশ কনস্টেবল। বাবা-মায়ের বড় সন্তান এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মায়ের অসুস্থতার জন্য ছেলেকে বিয়ে করানো হয় এইচএসসি পাশ সুলতানার (ছদ্মনাম) সঙ্গে।

বিয়ের পূর্বে ছেলে পক্ষকে কিছু জানানো না হলেও বিয়ের পরে মাহবুব যখন শ্বশুর বাড়ি যায়, তখন সে জানতে পারে তার সদ্য বিবাহিত বউ সুলতানা একাদশ শ্রেণীতে থাকাকালে এক সহপাঠীর সঙ্গে ঘর থেকে পালিয়ে গিয়েছিল।

এক মাস পর পরিবার যখন ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়া সুলতানার সন্ধান পায় তখন বরিশাল থেকে খুলনায় নিয়ে আসে। আর খুঁজতে থাকে সরকারি চাকরি করা কোন ছেলে। অবশেষে মাহবুবের সঙ্গে সুলতানার বিয়ে হয় এবং সুলতানার প্রেম ঘটিত কাণ্ড বিয়ের পূর্বে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়।

বিয়ের দুই দিন পর শ্বশুর বাড়ি গিয়ে ফুপা শ্বশুরের কাছ থেকে মাহবুব যখন তার বউয়ের পুরানো ঘটনা জানতে পারে, তখনই ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এবার সুলতানার বাবার আসল চেহারা ধরা পড়ল।

তিনি মাহবুবকে জানিয়ে দেন, যদি সে সুলতানাকে ডিভোর্স দেয়ার চিন্তা করে তবে যৌতুকের মামলা দেয়া হবে। মিথ্যা যৌতুকের মামলার ভয়ে মাহবুব সব কিছু মেনে নিয়ে সংসার করে চলেছে। কারণ সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বল্প বেতনে চাকুরে মাহবুব ভালো করেই জানে, মামলা হলেই চাকরি থেকে বরখাস্ত হতে হবে।

প্রতিটা অন্যায়ের জন্য আইন থাকা উচিত। বিচার থাকা উচিত। যৌতুকের জন্য শাস্তির বিষয়ে কারও কোন দ্বিমত নেই। প্রয়োজনবোধে এই শাস্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু কেউ যেন এটাকে হাতিয়ার বানিয়ে অন্যের ওপর অন্যায়ভাবে ব্যবহার করতে না পারে, সেটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

প্রকাশিত তথ্য মতে, নারী নির্যাতনের ৮০ শতাংশেরই কোন প্রমাণ মেলে না। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ মানুষটিকে জেলে থাকতে হয়, না হয় পালিয়ে থাকতে হয়।

লেখক: রিয়াজুল হক, উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × one =