Templates by BIGtheme NET
৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » খেলাধূলা » ঘৃণিত একাদশে চার অস্ট্রেলিয়ান ও তিন ভারতীয় ক্রিকেটার, আছেন এক বাংলাদেশিও

ঘৃণিত একাদশে চার অস্ট্রেলিয়ান ও তিন ভারতীয় ক্রিকেটার, আছেন এক বাংলাদেশিও

প্রকাশের সময়: মে ২২, ২০১৯, ৫:০২ অপরাহ্ণ

সারা বিশ্বে খেলোয়াড়দের সুনাম রয়েছে, ভক্ত রয়েছে তেমনি হেটারসের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো একটি স্ট্যাটাস, কোনো একটা কথা কিংবা মাঠের কোনো একটা কাণ্ডের কারণে অনেক সময় নিন্দিতদের কাতারে চলে যেতে পারেন বড় যেকোনো খেলোয়াড়। সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকট্র্যাকার’ বিশ্ব ক্রিকেটের ঘৃণিত খেলোয়াড়দের এমনই এক তালিকা করেছে।

তালিকায় এক নম্বরে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিভাবান ওপেনার ও স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে দণ্ডিত ক্রিকেটার সালমান বাট। যার মধ্যে সর্বকালের সেরা হওয়ার সব গুণাবলিই ছিল। কিন্তু ফিক্সিংয়ের কারণে শুধু পাকিস্তানি সমর্থকদের কাছেই নয়, বিশ্বজুড়েই ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন সালমান বাট।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন, রাতে মাতাল হয়ে মারামারির মতো কাণ্ড ঘটিয়ে নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংস করা কিউই ওপেনার জেসি রাইডার। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে কোরি অ্যান্ডারসন যখন শহীদ আফ্রিদির ৩৭ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ভাঙেন, ওই ম্যাচেই ৪৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন রাইডার।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন, ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের অন্যতম রিকি পন্টিং। কারণ একটাই, খেলোয়াড়ি জীবনে ম্যাচ জেতার জন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে সিডনি টেস্টে খেলোয়াড় এবং আম্পায়ারদের সঙ্গে তার লেগে যাওয়ার ঘটনাটি এখনও মনে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। তিনি এক সময় ভারতের কোচও ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবন কিংবা কোচ হিসেবে কোনো সময়ই ভারতীয় সমর্থকদের পছন্দের পাত্র হতে পারেননি চ্যাপেল। ১৯৮১ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ছোট ভাই ট্রেভর চ্যাপেলকে দিয়ে আন্ডারআর্ম বল করিয়ে দুর্নাম কামান চ্যাপেল। আর ২০০৭ সালে ভারতের কোচ হয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে তুমুল দ্বন্দ্বে জড়ান।

ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন রয়েছেন পঞ্চম অবস্থানে। খেলোয়াড় হিসেবে ভক্তদের অনেক প্রিয় হলেও ব্যক্তিজীবনের কারণে সমালোচনার শিখরে ছিলেন আজহারউদ্দিন। অভিনেত্রী সঙ্গীতা বিজলানিকে বিয়ে করার পরও একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। আর সবচেয়ে বেশি নিন্দা কুড়ান ২০০০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে।

কিংবদন্তি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও রয়েছেন এই তালিকায়। তার অবস্থান ষষ্ঠ। ২০০৭-০৮ মৌসুমে ভারত সফরে ঠুনকো ঘটনায় শচিন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ আর অন্যান্য ভারতীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে প্রথম সমালোচিত হন ক্লার্ক। ঘরেও দুর্নাম আছে। তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ সতীর্থ মিচেল জনসন। ক্লার্কেরও অন্য অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কদের মতো যেকোনো মূল্যে ম্যাচ জেতার একটা প্রবণতা ছিল, যেটা তাকে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কাছে ঘৃণার পাত্র বানিয়েছে অনেকবার।

সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন, একমাত্র বাংলাদেশী ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। দেশের সাবেক এই অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অপরিণত এবং কটু উদযাপনের জন্য ভারতীয় সমর্থকদের কাছে ঘৃণিত। ক্রিকট্র্যাকারের ভাষায়, কষ্টার্জিত জয় কিংবা প্রতিপক্ষ দলের উইকেট ফেলার পর বন্য উদযাপন করে নিন্দা কুড়িয়েছেন মুশফিক। এছাড়া ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ভারতের হারের পর একটি ছবি পোস্ট করে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন মুশফিক। পরে তিনি সেটা ডিলিট করেন কিন্তু ভারতীয় সমর্থকদের অনেকেই সেটির স্ক্রিনশট নিজেদের কাছে রেখেছেন এবং এজন্য মুশফিককে পছন্দ করেন না তারা।

ভারতের সাবেক পেসার শ্রীশান্তের অবস্থান অষ্টম। ভক্ত-সমর্থকদের কাছে নিন্দার পাত্র হওয়ার কারণ স্পট ফিক্সিংয়ের মতো প্রতারণা। ২০১৩ সালে এই কাণ্ডের পর আজীবন নিষিদ্ধ হন এই পেসার।

ভারতের সর্বকালের সেরা অফস্পিনারদের একজন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তার অবস্থান নবম। অশ্বিন মূলত নিন্দা কুড়িয়েছেন ‘মানকাড’ আউটের কারণে। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এই কাণ্ড ঘটালেও তেমন আলোচনা হয়নি। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন এবারের আইপিএলে এমনটা করে। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অশ্বিন রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে জস বাটলারকে ‘মানকাড’ আউটের ফাঁদে ফেলেন, যেটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় উঠে।

২০১০ সালে ইংল্যান্ডে সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে স্পট ফিক্সিংয়ে নাম ছিল মোহাম্মদ আসিফেরও। ঘৃণিত ক্রিকেটারের তালিকায় তার অবস্থান দশম।

কিংবদন্তি লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন ঘৃণিত একাদশের সর্বশেষ ব্যক্তি। অস্ট্রেলিয়ান এই সাবেক মাঠে এবং মাঠের বাইরে এমন কোনো কাণ্ড নেই যে ঘটাননি। অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। ২০০৩ সালে মাদক গ্রহণের কারণে নিষিদ্ধ হন, ওই বছর তাই বিশ্বকাপও খেলতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও ছিল। যার ফলশ্রুতিতে ২০০৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ১৯৯৪ সালে একজন বুকির সঙ্গে তার সম্পর্কের খবর ফাঁস হয়। ২০০৮ সালে তার ধুমপানের ছবি তোলায় কয়েকজন বালককে মেরেছিরেন। ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি তাই বরাবরই ছিলেন আলোচনার মধ্যে, ভক্ত-সমর্থকদের কাছে চরম অপছন্দের পাত্রও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four + 20 =