Templates by BIGtheme NET
১২ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৬ জুন, ২০১৯ ইং , ২২ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » আগুনে, বরফে, মহাশুন্যেও বেঁচে থাকে যারা

আগুনে, বরফে, মহাশুন্যেও বেঁচে থাকে যারা

প্রকাশের সময়: মে ২০, ২০১৯, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

ছবির এই পোকার মত প্রাণিটিকে বলা হয় ‘পানিভালুক ‘। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘টারডিগ্রেড (Tardigrade)’। দেখতে ভালুকের মতো হলেও আকৃতি খুবই ছোট। এটি লম্বায় আধা মিলিমিটার হয়। সাধারণত গাছের বাকলে বাস করে। খায় ঘাস, পাতা।

কিন্তু এর মূল কেরামতি অন্য জায়গায়। তা হলো অসম্ভব রকমের ভয়ংকর পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে এই প্রাণীটি। এরা পৃথিবীর তাবৎ প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষমতাধারী। হিমালয়ের চূড়া, সাগরের গভীর তলদেশ, এন্টার্কটিকা বা মরুভূমি, সবখানেই এদের পাওয়া গেছে!

উচ্চতাপ ও পানিশূন্যতায় এরা বেঁচে থাকে। ১৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে আলু সেদ্ধ হয়। কিন্তু টারডিগ্রেডের এই গরমে কিছুই হয়না । আবার মাইনাস ২৭১ ডিগ্রী সেলসিয়াসেও এরা টিকে থাকতে পারে। দেহের পানি শুকিয়ে একেবারে পানিশূণ্য অবস্থায় চলে যায় যার নাম। পরিবেশ সাভাবিক হলে তারা আবার ঠিক হয়ে যায়।

দেহের ১% থেকে ৩% পানি নিয়ে এই অবস্থায় শরীরবৃত্তিয় কাজকাম (মেটাবলিজম) সব বন্ধ করে মটকা মেরে পড়ে থাকে। এই পানিশূন্য অবস্থায় এরা ১০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। যখন অবস্থা অনুকূলে আসে, তখন পানি শুষে আবার সুস্থ্যসবল হয়।

অক্সিজেন ছাড়া কোন প্রাণি কয়েক মিনিটের বেশি বাঁচতে পারি না। কিন্তু এই ‘টারডিগ্রেড’ টিকে থাকতে পারে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা অনেক প্রাণির সাথে টারডিগ্রেডদেরও মহাকাশে পাঠিয়েছিলেন। মানুষ স্পেসস্যুট ছাড়া মহাশূন্যে গেলে মারা যাবে। চাপশূন্যতার জন্য আমাদের রক্তবাহী নালী ফাটবে, কিন্তু টারডিগ্রেডের কিছুই হয়না।

২০০৭ সালে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা কিছু টারডিগ্রেডকে একটা স্যাটেলাইটে করে মহাশুন্যে পাঠিয়েছিলেন। এরা শুধু বেঁচেই ফেরেনি, কিছু ছানাপোনাও জন্ম দিয়ে ফেলেছিলো।

টারডিগ্রেড যেমন চাপহীন পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে, তেমনি সমুদ্রপৃষ্ঠের ১২০০ গুণ বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। কিছু টারডিগ্রেড সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ৬০০০ গুণ বেশি চাপ বহন করতে পারে। এই চাপ পৃথিবীর গভীরতম সাগরের এর ছয়গুণ।

এছাড়া গামা রশ্মি তেজস্ক্রিয়তাই প্রাণঘাতী। সেখানে টারডিগ্রেড ৫০০০ থেকে ৬০০০ Gy তেজস্ক্রিয়তায় অক্ষত থাকে। অতিবেগুনি রশ্মিতে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও পরে মেরামত হয়ে যায়।

এদের আপনি সেদ্ধ করেন, ফ্রিজ করেন, কঠিন চাপে গুঁড়া গুঁড়া করেন, পানিবিহীন কারবালা প্রান্তরে ফেলে আসুন বা তেজস্ক্রিয়তায় ঝালাপালা করুন, কিছুতেই এরা মরবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 − 11 =